সামরিক ইতিহাসের ছয় তারকা
- Stock: In Stock
- Model: কর্নেল মহাম্মদ আবদুল হক
Description
সেই ব্রিটিশ শাসনামলের কথা। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের অবসান হতে থাকে ধীরে ধীরে। দীর্ঘ মুসলিম শাসনে অবসন্ন ভারতীয় মুসলিম বিদ্বেষী বিশাল জনগোষ্ঠী ব্রিটিশ-বেনিয়াদের সাথে যোগ দেয় মুসলিম বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রে। মুসলমানগণ সহজ শিকারে পরিণত হয় শাসকগোষ্ঠীর। সরকার পরিচালনার পদগুলো থেকে তারা চ্যুত হতে থাকে এবং ইংরেজদের সাথে অভিমান করে ইংরেজি শিক্ষা নিজেদের জন্য নিষিদ্ধ করে তৎকালীন আধুনিক শিক্ষায় একেবারেই পিছিয়ে পড়ে। ফলে মুসলমান জনগোষ্ঠীর উপর এর এক দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে পড়ে সরকারি চাকরি থেকেও বঞ্চিত হতে থাকে মুসলমান জনগোষ্ঠী। এরপর বহু সময় পার হয়ে যায়, ধীরে ধীরে মুসলমানদের মধ্যে কিছুসংখ্যক ব্যক্তিত্ব উচ্চশিক্ষা লাভ করে সামরিক-অসামরিক পদে যোগ দেয়ার সুযোগ পান। সে দুঃসময়ের কিছু সামরিক অফিসার বা সামরিক নেতাকে জাতির সামনে তুলে ধরার এ প্রয়াস।
সামরিক শক্তি ছাড়া কোন দেশ টিকে থাকা বড়ই কঠিন। পরাধীনতার বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাবার জন্যও সামরিক শক্তি প্রয়োজন। হঠাৎ করে এদেশ স্বাধীন হয়ে যায়নি। এর ভিত্তি রচিত হয়েছে বহু আগে। এরপর রাজনীতিবিদগণের পাশাপাশি সামরিক নেতাগণ এ ভিত্তিকে ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী অবয়ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এমন এক সময় ছিল যখন এ বাংলার মানুষ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুক ছিলেন না। গুটি কয়েকজন বাঙালি অফিসার ছিলেন ব্রিটিশ-ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে। এ সকল অফিসারগণ কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের পরিবেশ তৈরি করতে আপ্রাণ চেষ্টা ও উদ্বুদ্ধ করেন এবং পাকিস্তানের শুরুতেই 'ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট' নামে একটি স্বতন্ত্র রেজিমেন্ট গড়ে তোলার প্রয়াস পান। যে রেজিমেন্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করে।
বিশেষ করে দুঃসাহসী, ত্যাগী ও মেধাবী চৌকস অফিসার যারা সামরিক নেতা হিসেবে পরিচিত, সামরিক বাহিনী গঠন এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অসাধারণ অবদান রেখেছেন। এ বইয়ে সম্মুখ সারির অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বদের জীবনী ও তাঁদের কৃতিত্বকে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং যা জাতীয় পত্রিকা ও ‘ফেসবুকে' প্রকাশ করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। বয়োজ্যেষ্ঠ, জ্ঞানী, অভিজ্ঞরা সেগুলো পড়ে আরো বহু তথ্য ও অজানা বিষয় তুলে ধরেছেন। এসব মন্তব্যও এ বইয়ে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
আশা করি, ইতিহাস-প্রিয় পাঠকসমাজ এ বইয়ে বর্ণিত আমাদের পূর্বপুরুষ, যারা দেশ ও জাতির জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ এবং বাঙালি জাতির উন্নতির লক্ষ্যে সারাজীবন কাজ করে গেছেন, তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তাঁদের জন্য দোয়া করা। এ ছাড়াও তাঁদের ভাল দিকসমূহ তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করার কালচার আমাদের জাতির মধ্যে প্রোথিত করা।
প্রিয় পাঠকগণকে বইয়ের যেকোন ভুল-ত্রুটি শুধরে দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হল। মহান আল্লাহ্ সুবাহানু ওয়াতায়ালা আমাদের সহায় হোন। আমীন ।